Bangladesh - After Fascist

২০২৬ সালের নির্বাচন কি ভারতের প্রেসক্রিপশনে?

জামায়াতকে দাবিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে ৫৩টি আসনে কারচুপি করা হয়েছে। দ্য নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক মাসুদ মাহবুব এমন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তার নিউজ চ্যানেলে বলেন, জামায়াতকে ৫০টি সীট কম দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নির্বাচনের দু্ু্ই তিন আগে তাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন লোক ফোন দিয়ে বলেছিলেন যে,................

লেখক Admin
সময় ৩০/০৪/২৬ ০৫:০৭:১৫
Facebook LinkedIn X (Twitter) WhatsApp Share
সারাংশ

জামায়াতকে দাবিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে ৫৩টি আসনে কারচুপি করা হয়েছে। দ্য নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক মাসুদ মাহবুব এমন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তার নিউজ চ্যানেলে বলেন, জামায়াতকে ৫০টি সীট কম দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নির্বাচনের দু্ু্ই তিন আগে তাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন লোক ফোন দিয়ে বলেছিলেন যে,................

বাংলাদেশে নিবার্চন কখনো শত ভাগ সুষ্ঠু হয় না। ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে ভোট ডাকাতি হয়েছে, দিনের ভোট রাতে হয়েছে, ডামি নির্বাচন হয়েছে, কেন্দ্র দখল করা হয়েছে, প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় হয়েছে, ব্যালটে সীল মেরে বাক্স বোঝাই করা হয়েছে এবং ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছামতো ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এত সব অন্যায় করা হলেও রেজাল্ট শিট ঘষামাজা করে ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং করার কোনো কথা শোনা যায়নি। এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যাপকভাবে এ উপসর্গ দেখা গেছে। রেজাল্ট শিট ঘষামাজা করে পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী এবং বিজয়ী প্রার্থীকে পরাজিত করার বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেজাল্ট শিটে এমন কাটাকাটি আর কখনো দেখা যায়নি। মনে হয় রেজাল্ট শিটে যেন তেলাপোকা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিভাবে পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য কাটাকাটি করা হয়েছে তা দেখলে সহজে বুঝা যায়। টিআইবির প্রতিবেদনেও একথা স্বীকার করা হয়েছে।


৫৩ টি আসনে কারচুপি

জামায়াতকে দাবিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে ৫৩টি আসনে কারচুপি করা হয়েছে। দ্য নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক মাসুদ মাহবুব এমন একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি তার নিউজ চ্যানেলে বলেন, জামায়াতকে ৫০টি সীট কম দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নির্বাচনের দু্ু্ই তিন আগে তাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন লোক ফোন দিয়ে বলেছিলেন যে, জামায়াতকে ৫০টি সীট কম দেয়া হবে। সাংবাদিক মাসুদ মাহবুব কোনো মন্তব্য করেননি। ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই লোক সাংবাদিক মাসুদ মাহবুবকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘মাসুম! তোমার কি মনে আছে আমি তোমাকে ফোনে বলেছিলাম যে, জামায়াতকে ৫০টি সীট কম দেয়া হবে? ৫০টি নয়, বাস্তবে কম দেয়া হয়েছে ৫৩টি। এবার হিসাব মিলিয়ে নাও।’


সাংবাদিক মাসুদ মাহবুবের এ তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। পিরোজপুর—২ আসনে মাওলানা দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদীর জ্যেষ্ঠ পুত্র মাসুদ সাঈদীকে মাত্র ৭০ ভোটে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। খুলনায় মিয়া গোলাম পরোয়ারকে মাত্র ২০০০ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়। জামায়াত ৫০০০ ভোটের ব্যবধানে হেরেছে এমন আসন সংখ্যা ছিল ৫৩টি। মূলত এই ৫৩ টি আসনে কারচুপি করে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়া হয়েছে। জামায়াত জোট প্রকৃত পক্ষে ১৩৫টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। কিন্তু ডিপ স্টেট সংখ্যা কমিয়ে ৭০—৮০ টিতে নামিয়ে আনে। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর আসন সংখ্যা ৮৪ থেকে কমে ৫৩ হয়ে যায়।


ফেইসবুকে এভভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকীর পেইজে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের বোয়ালি বিএল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই ধানের শীষে সীল মেরে ভোটারের হাতে তুলে দিচ্ছেন। স্টার নিউজ পরিবেশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লায় ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষে সীল মারা ব্যালট। নাগরিক টিভিতে অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লায় ধানের শীষে সীলা মারা আরো ব্যালট। সিরাজগঞ্জ—২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম এক লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। অন্যদিকে, বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এক লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু ভোট কম পেলেও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। লালমনিরহাট—২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফিরোজ হায়দার ৬৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। বিএনপির রুকনউদ্দিন বাবুল ৬৪ হাজার ৮১২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। দ্বিতীয় অবস্থান গ্রহণকারী রুকনউদ্দিন বাবুলকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এসএন—২৪ নিউজ চ্যানেল পরিবেশিত সংবাদে দেখা যায়, লালমনিরহাট—২ আসনের শংকরটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৪৭৫। সাতজন প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৩১৭৫। অবৈধ ভোট সংখ্যা ৩১। মোট কাস্টিং ভোট ৩২০৬। অথার্ৎ সাত শো ৩১ ভোট বেশি কাউন্ট করা হয়েছে। ডেইলি ক্যাম্পাস পরিবেশিত সংবাদে দেখা যায়, ঢাকা—১৩ আসনে কাদেরিয়া তৈয়বিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৬ নম্বর ফরম কাটাকুটি করে ধানের শীষের পক্ষে ৭৩৪ ভোট দেখানো হয়েছে। একই কেন্দ্রে ২৬ নম্বর ফরমে কাটাকুটি করে ধানের শীষের পক্ষে আরেকটি ব্যালটে ৬৩৯ ভোট দেখানো হয়েছে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই মাত্রা দেখে মনে হয়েছে হাসিনার রাজত্ব এখনো শেষ হয়নি এবং এখনো ইচ্ছামতো রাতে ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন যদি ডিপ স্টেট সিলেকশন হয় তাহলে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল কি? কচুঁক্ষেত থেকে ফলাফল ঘোষণা করে দিলেই হতো। কলঙ্কিত বিজয়ের চেয়ে পরাজয় অনেক বেশি মধুর।


১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে জামায়াতের অফিসিয়াল পেইজ থেকে নিউজ বুলেটিনে বলা হয়েছিল, জামায়াত জোট ৬১টি আসনে এবং বিএনপি জোট ৫৮টি আসনে এগিয়ে আছে। কিন্তু দৈনিক ইত্তেফাকে দেখানো হচ্ছিল বিএনপি জোট ৬টি আসনে বিজয়ী এবং জামায়াত জোট ৩টি আসনে বিজয়ী। একইভাবে দৈনিক যুগান্তরে দেখানো হচ্ছিল বিএনপি জোট ১০টি আসনে বিজয়ী এবং জামায়াত জোট ২টি আসনে বিজয়ী। ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ১০ মিনিট আগে ইত্তেফাকে ঢাকা—১৭ এবং বগুড়া—৬ আসনে তারেক রহমানের বিজয়ী হওয়ার সংবাদ দেখা যায়। সূত্র হিসেবে রির্টানিং কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দেয়া হয়। একটু পরে একই নিউজ বিএনপির দলীয় সূত্র উল্লেখ করে ছাপা হয়। এবার রির্টানিং কর্মকর্তার উদ্ধৃতি নেই। যুগান্তর দেখাচ্ছিল তারেক রহমান ঢাকা—১৭ এবং বগুড়া—৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। সূত্র হিসেবে বিএনপির দলীয় সূত্র উল্লেখ করা হয়। সংবাদপত্র নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করবে অথবা মাঠ পর্যায়ে রির্টানিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রকাশ করবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রকাশ করবে কেন? দল তো কোনো নিরপেক্ষ সূত্র নয়? চমৎকার নির্বাচন হয়েছিল। প্রাথমিক ভোট গণনা পর্যন্ত ভালোই ছিল। হঠাৎ করে ফলাফল ঘোষণা ১৮০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে যায়। পাসকে ফেল এবং ফেলকে পাস বানানো হয়। পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফলে মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে।


১২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ঢাকা—৮ আসনের (মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর) ভোটের তিনটি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া যায়। এতে এগিয়ে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। ধানের শীষের মনোনীত বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ পান এক হাজার ২৪২ ভোট। শাপলা কলি প্রতীকের মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী পান এক হাজার ২৪৯ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ এবং নারী ভোটার এক লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন। এছাড়াও একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি মাত্র ১৯৬ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ঢাকা—৮ আসনে সাদা জায়গায় সীল মারা ব্যালটকে ধানের শীষের পক্ষে বলে রায় দেয়া হয়। রিটার্নিং অফিসার যুক্তি দেন যে, ভোটার না বুঝে ধানের শীষের পাশে সাদা জায়গায় সীল মেরেছে। এতে কোনো দোষ নেই। এ ভোট ধানের শীষের পক্ষের। মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বলেছেন, ব্যালটে সাদা জায়গায় সীল ছিল। এসব সাদা ব্যালট ধানের শীষের ভোট হিসেবে গণনা করা হয়। ঢাকা—৮ আসনের প্রিজাইডিং অফিসার সাদা জায়াগায় সীল দেয়া ব্যালট মির্জা আব্বাসের পক্ষে বৈধ ব্যালট পেপার হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আরপিও ১৯৭২—এর অনুচ্ছেদ ৩১(৫)(খ) অনুযায়ী একজন ভোটার ব্যালট পেপার গ্রহণের পর যে প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তার নাম ও প্রতীকের জন্য নির্ধারিত ঘরের ভেতরে বিধি অনুযায়ী চিহ্ন (prescribed mark) প্রদান করবেন। আরপিও ১৯৭২—এর অনুচ্ছেদ ৩৬(৪)(গ)(রা) অনুযায়ী যে ব্যালট পেপারে এমন চিহ্ন আছে, যেখান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় না ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন সেই ব্যালট গণনা থেকে বাদ দিতে হবে। ঢাকা—৮—এর প্রিজাইডিং অফিসার আর রিটার্নিং অফিসার আইনের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে এরকম স্পষ্ট বহু বাতিল ব্যালট পেপারকে মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রাপ্তভোট হিসেবে গণনা করেছেন। ঢাকা—৮ আসনে সাদা অংশে সীল দেয়া ব্যালট বৈধ হিসেবে গণনা করা হলেও ঢাকা—১৩ আসনে এ ধরনের ব্যালট গণনা করা হয়নি। এ আসনে সাদা জায়গায় সীল দেয়া ব্যালট গণনা করা হলে মাওলানা মামুনুল হক বিজয়ী হতেন। কিন্তু স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে যে, ববি হাজ্জাজের অনুকূলে নির্বাচন কমিশন এ দ্বৈত আচরণ করেছে। ঢাকা—১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। যে দেশে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ছেলে ববি হাজ্জাজকে নির্বাচনে নমিনেশন দেয়া হয় এবং যে দেশে বুখারী শরীফের বাংলা অনুবাদক শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে মুফতি মামুনুল হককে কারচুপি করে পরাজিত দেখিয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ীর ছেলেকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, সে দেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না। এমন দেশকে মাফিয়াদের দেশ বললে সঠিক বলা হয়।


খেলাফত মজলিসের হুঁশিয়ারি

২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি খেলাফত মজলিসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা—১৩ আসনে মাওলানা মামুনুল হকের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত কারচুপির মাধ্যমে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। রিকশা প্রতীকের অসংখ্য বৈধ ভোট অবৈধ ঘোষণা, ফলাফলে ঘষামাজা ও ভোটের সংখ্যা পরিবর্তন করে চূড়ান্ত ফলাফল বিকৃতির মাধ্যমে প্রকাশ্য রেজাল্ট ডাকাতি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো দাবি করা হয়, অধিকাংশ কেন্দ্রে রিকশা প্রতীক এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই ফলাফল লেখায় কারচুপি করা হয়। রাত ১১টার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন মাধ্যমে মামুনুল হকের বিজয়ের সংবাদ প্রচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই সংশোধিত ফলাফল পাঠানো হয় যা গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। এ অবস্থায় মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ ও ফলাফল স্থগিতের আবেদন জানালেও তড়িঘড়ি করে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আদালত ও আন্দোলন—উভয় পথ বেছে নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।


প্রতি মিনিটে ১২ ভোটারের উপস্থিতি!

২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজকের কণ্ঠের একটি রিপোর্টে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রতি মিনিটে ১২ ভোটারের উপস্থিতি দেখিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন নেই, মাঠ প্রায় ফাঁকা। অথচ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভোটের অবিশ্বাস্য জোয়ার। কমিশনের দেয়া তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্রের এই অসামঞ্জস্যতা বিশ্লেষণ করে বেরিয়ে এসেছে এক বিস্ময়কর তথ্য—কাগজে—কলমে প্রতি মিনিটে ১২ জনেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন যা বাস্তবে অসম্ভব। সকাল ১১টায় ভোট ছিল ১৪ শতাংশ। দুপুর ১২টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ শতাংশে। মাত্র এক ঘণ্টায় ভোট বেড়েছে ১৮ শতাংশ (প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ)। এই এক ঘণ্টায় প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৬৭৫টি ভোট পড়েছে। গাণিতিক হিসাবে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতি মিনিটে ১১ দশমিক ২৫ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। প্রতি ৫ সেকেন্ডে একটি ভোট কাস্ট হওয়া অসম্ভব বিশেষ করে যখন কেন্দ্রগুলো ফাঁকা। নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল ১৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী এক ঘণ্টায় (দুপুর ১২টা পর্যন্ত) হঠাৎ করেই ১৮ শতাংশ ভোট বেড়ে মোট উপস্থিতি দাঁড়ায় ৩২ শতাংশে। দেশের মোট ভোটার প্রায় ১২ কোটি এবং সচল ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ধরে হিসাব করলে দেখা যায়, এই এক ঘণ্টায় সারা দেশে অতিরিক্ত ২ কোটি ১৬ লাখ ভোট পড়েছে। এই বিশাল সংখ্যক ভোটকে কেন্দ্র ও সময় দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রে এক ঘণ্টায় ৬৭৫ জন মানুষ ভোট দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ১১ জনের বেশি ভোটার ব্যালট বক্সে ভোট ফেলেছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও পোলিং এজেন্টদের মতে, প্রচলিত ব্যালট পেপার পদ্ধতিতে একটি ভোট সম্পন্ন করতে (শনাক্তকরণ, কালি দেয়া, ব্যালট ইস্যু ও সীল মারা) গড়ে ৩ থেকে ৪ মিনিট সময় লাগে। সেখানে প্রতি মিনিটে ১১টি ভোট গ্রহণ করা মানে প্রতিটি ভোটের জন্য সময় পাওয়া গেছে মাত্র ৫ সেকেন্ড যা মানুষের পক্ষে শারীরিকভাবে অসম্ভব। এছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, দুপুরের এই সময়ে অধিকাংশ কেন্দ্রের মাঠ ছিল ফাঁকা। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। ফাঁকা মাঠে কীভাবে প্রতি মিনিটে ১১ জন করে ভোটার ভোট দিলেন, সেই প্রশ্নই জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্লেষকরা তাকে ‘গাণিতিক অসঙ্গতি’ বা সাজানো ফলাফল বলে অভিহিত করেছেন।


জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কয়েকটি আসনে রেজাল্ট শিট পরিবর্তন ও ঘষামাজার অভিযোগ করেছেন। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল ঘোষণা নিয়ে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। জুবায়ের বলেন, ভোট গণনা বিকেল ৫টার দিকে শুরু হলেও গভীর রাত পর্যন্ত কিছু আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। আমাদের এজেন্টদের পাওয়া শিট অনুযায়ী রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই ফল ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু অস্বাভাবিক বিলম্ব করা হয়েছে। তিনি ঢাকা—১৭ আসনসহ কয়েকটি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা আটটি শিট পরিবর্তন ও ওভাররাইটিংয়ের অভিযোগ করেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে বলেন, স্বাক্ষরিত আটটি শিট পরিবর্তন ও ওভাররাইটিং করে ৫ হাজার ভোট কমিয়ে তারেক রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি আরো বলেন, প্রথমে যে শিটে স্বাক্ষর দেয়া হয়েছিল পরে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ঢাকার প্রায় সব আসনেই আমাদের প্রার্থী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ফল ঘোষণায় গড়িমসি করা হয়েছে।


টিআইবির প্রতিবেদনে অনিয়মের স্বীকারোক্তি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত চল্লিশ শতাংশ আসনে একাধিক অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, টিআইবি দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে অনিয়মের চিত্র দেখতে পেয়েছে। অর্থাৎ যে চল্লিশ শতাংশ আসনে অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো মোট ৩০০ আসনের চল্লিশ শতাংশ নয়, বরং ৭০টি আসনের মধ্যে চল্লিশ শতাংশ। সংস্থাটি ৭০টি আসনে যেসব অনিয়ম দেখতে পেয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ঘটেছে ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া। টিআইবি বলছে, তাদের পর্যবেক্ষণ করা ৭০টি আসনের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ আসনেই এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৭০ আসনের ভোট পর্যবেক্ষণে আরো যেসব অনিয়মের ঘটনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ আসনে। জাল ভোট দেয়া হয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ আসনে। বুথ দখলের ঘটনা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ আসনে। প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ভোট গ্রহণের আগেই ব্যালটে সীল মারার ঘটনাও একই হারে ঘটেছে অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ আসনে। রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম পাওয়া গেছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ আসনে।


ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিকদের বাধা দেয়ার ঘটনা ৭ দশমিক এক শতাংশ আসনে। ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ ৭ দশমিক এক শতাংশ আসনে। সার্বিক পর্যবেক্ষণে টিআইবি বলেছে, শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা নির্বাচনী কার্যক্রমের পুরনো রাজনৈতিক চর্চা বজায় রেখেছেন। ফলে নির্বাচনে দল ও জোটের মধ্যে আন্তঃদলীয় কোন্দল, ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে যা নির্বাচন পরবর্তী সময়েও অব্যাহত। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলো কিনা প্রশ্নোত্তরপর্বে এমন প্রশ্ন করা হয়। জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অনেকেই ভোট দিয়েছেন।


রংপুরে ব্যালট পেপার ও সীল উদ্ধার

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের হাসার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে ছয়টি ব্যালট পেপার ও দুটি সীল উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে এই ঘটনা ঘটার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ হন। স্থানীয়রা জানান, স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দুটি সীলসহ ছয়টি ব্যালট খুঁজে পান। তাদের মধ্যে দুটি ধানের শীষ প্রতীকের, দুটি ‘হ্যা’ঁ এবং দুটি ‘না’ প্রতীকের। পরে ব্যালট ও সীলগুলো প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি ইউএনওকে অবগত করলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। কিছু নারী ঝাড়ু হাতে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ইউএনওকে ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ করা হয়। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে।’ রংপুর—৬ (পীরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী নূরুল আমীন এক লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম এক লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট পান। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তিন দিন ধরে পুনরায় গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

ঝিনাইহে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়ায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ইত্তেফাকে প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়, ঝিনাইদহ—৪ আসনের কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষরিত ২৩টি শিট জব্দ করা হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব শিট জব্দ করেন। নির্বাচনের আগের রাতে কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এক পোলিং এজেন্ট গেলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ফাঁকা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেন। পরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আরেক পোলিং এজেন্ট এসে সাতটি রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করেন। কেন্দ্র থেকে বের হয়ে ধানের শীষের এ এজেন্ট ফাঁকা রেজাল্ট শিটে সই করার বিষয়টি জানালে এলাকায় আলোচনা—সমালোচনা শুরু হয়। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিটগুলো জব্দ করেন।


নওগাঁয় ফাঁকা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়ায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক খবরে বলা হয়, নওগাঁ—৫ (সদর) আসনের ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণার আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর ও সিল দেয়ার অভিযোগে এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কাটখইর উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন বলেন, ‘ভোটগ্রহণ চলাকালেই নির্ধারিত ফলাফল শিটে নিজের স্বাক্ষর ও পদবি সম্বলিত সীল দিয়ে রাখেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিন। কিন্তু ভোটগণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করার কোনো বিধান নেই। প্রাথমিকভাবে এ প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

গৌরনদীর প্রিজাইডিং অফিসার লিখেছেন:

'' ভাই, আমি গৌরনদী, বরিশালের একটা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ছিলাম। ঐখানে হিন্দু ভোটার মুসলিমদের চেয়ে সামান্য বেশি। ১১ টার দিকে আমার সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা এসে বলছে, স্যার হিন্দুরা সব ‘না’ ভোট ও ধানের শীষে ভোট দিচ্ছে। আমি বললাম, কি বলেন? ওদের না জামায়াতকে ভোট দেওয়ার কথা? আমিও নিজে গিয়ে মাঝে মাঝে দেখলাম কথা সত্য। তাছাড়া আমার নিজের আসন বটিয়াঘাটা, খুলনায় জামায়াত হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে দিয়েও জেতাতে পারেনি। শিশির মনিরও হিন্দু ভোট না পাওয়ায় হেরে গেছে। আসলে মুসলিম ভোট কিছুটা বেশি পেয়ে জামায়াত এগিয়ে থাকলেও প্রত্যেক আসনের হিন্দু ভোট প্রায় ৯৯ শতাংশ বিএনপি পেয়ে এগিয়ে গেছে। মুলত হিন্দুরা এটা স্পষ্ট যে, তারা আওয়ামী বা বিএনপির রাজনীতি করে না। ভারত যেদিকে সাপোর্ট দেবে, সেই রাজনীতি করে। আমি জামায়াতের থানা পর্যায়ে আমির বা অন্যদের বলেছিলাম, জগন্নাথ হলের রেজাল্ট দেখে আপনারা শিক্ষা নেন যে, হিন্দুরা উপরে উপরে যতই বলুক জামায়াত বা বাংলাদেশপন্থী, কিন্তু কাজে সম্পূর্ণ ভারতীয়। ওরা কোনোদিনও বাংলাদেশকে নিজের দেশ মনে করে না। এমনকি ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেললে ওরা ভারতকেই সাপোর্ট করে। আমি নিজেই গোপনে হিন্দুবাড়িতে খেলা দেখতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। জামায়াতের উচিত মুসলমানদের সাথে সম্পর্ক ধরে রাখা। ভোট দেবে জনগণ কিন্তু ক্ষমতায় কে যাবে তা ইঞ্জিনিয়ারিং করে নির্ধারণ করবে দুর্নীতিবাজ।''


গোপলগঞ্জের তিনটি আসনে গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে এবং এই তিনটি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। পতিত শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে গণভোটের বিপক্ষে ভোট প্রয়োগ একটি বিশেষ বার্তা দিচ্ছে। গোপালগঞ্জ—১ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৭১৬ ভোট এবং ‘না’ ভোট পড়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ২৯৮ ভোট।


গোপালগঞ্জ—২ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭২ হাজার ৯৪৯ ভোট এবং ‘না’ ভোট পড়েছে এক লাখ ৭ হাজার ২৯০ ভোট।

গোপালগঞ্জ—৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৩৯ হাজার ৪৯৮ ভোট এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৯৩ হাজার ৩৬৮ ভোট।


লেখক
Admin English Bio Dhaka, Bangladesh

Comments