ঘটনাটির সূচনা হয় যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গোপন অভিযানের মাধ্যমে কারাকাস থেকে মাদুরোকে আটক করে। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন নেতাকে অন্য একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি তুলে নিয়ে যাওয়া; এটি আধুনিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত ঘটনা। এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র “ন্যায়বিচারের প্রয়াস” হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকরা এটিকে সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। এই দ্বৈত প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, বর্তমান বিশ্বে বৈধতা আর এককভাবে সংজ্ঞায়িত নয়; বরং এটি শক্তি, স্বার্থ এবং প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
জানুয়ারি ৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার কয়েক দিন পর ভেনেজুয়েলা সীমান্তঘেঁষা কলম্বিয়ার তিবু (Tibú) শহরের কাছে প্রধান মহাসড়কে সশস্ত্র লোকেরা একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে দেয়। বাসটিতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। হামলাকারীরা যাত্রীদের ফোন পরীক্ষা করার জন্য জমা দিতে বলে এবং এরপর পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ করে।এই হামলাকারীরা ছিল ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ই.এল.এন.-এর সদস্য একটি কলম্বীয় গেরিলা সংগঠন, যা ১৯৬০-এর দশকে বামপন্থী বিদ্রোহ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে ব্যাপকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে তাদের প্রায় ৬,৩০০ যোদ্ধার মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি ভেনেজুয়েলায় অবস্থান করছে, যেখানে তারা অন্তত এই মাস পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সুবিধার এক ধরনের জোট উপভোগ করে আসছিল।